
মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত, মুকুন্দগাঁতী বাজারের অবৈধ দোকান সরানোর উদ্যোগ
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মাদকের বিস্তার ও মুকুন্দগাঁতী বাজারের অসহনীয় যানজট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটি।
মাদক প্রতিরোধে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি, নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের যানজট নিরসনে অবৈধ দোকানপাটের তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বেলকুচি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেলকুচিতে আগের তুলনায় মাদকের প্রবণতা বেড়েছে। মাদক প্রতিরোধে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি সভা-সেমিনার, প্রচার-প্রচারণা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। তবে মাদক মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের পর অনেক ক্ষেত্রে বাদী মামলা করতে বা সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী না হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। মাদকসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সভায় সংসদ সদস্য ৬৬-সিরাজগঞ্জ ৫ (বেলকুচি, চৌহালী, এনায়েতপুর ) আসনের এমপি আমিনুল ইসলাম খান বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। এটি নির্মূলে প্রশাসন বা পুলিশের একার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
যানজট নিরসনে অবৈধ দোকানের তালিকা
বেলকুচির ব্যস্ততম বাজারগুলোর একটি মুকুন্দগাঁতী বাজারের যানজট নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানোর বিষয়টি উঠে আসে।
এ কারণে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাটের তালিকা তৈরি করে তাদের জন্য বিকল্প জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাকের মালামাল ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ এবং ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে লোড-আনলোড বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়।
ভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা না করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রতিরোধে নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া ফসলি জমি থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটা এবং অনুমোদিত বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার, মহাসড়ক ও নৌপথে নজরদারি বৃদ্ধি এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো ও উচ্চ শব্দের পরিবর্তিত সাইলেন্সারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌতুক, ইভটিজিং ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সভায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।