
চট্টগ্রাম মহানগরীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শ্রদ্ধা-ভক্তি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভ জন্ম ও ওফাত দিবস উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এ জুলুস চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল সকাল ১০টায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে জশনে জুলুসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে জুলুসটি এক অনন্য ধর্মীয় আবহের সৃষ্টি করে।
জুলুসটি মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, টাইগারপাসসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত একাধিক জুলুস নির্ধারিত রুটে মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্মসূচিকে আরও বর্ণাঢ্য করে তোলে।
পুরো জুলুসজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ, হামদ-নাত পরিবেশন এবং ধর্মীয় শ্লোগানের মাধ্যমে ঈমানি আবেগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। এতে নগরজুড়ে এক পবিত্র ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সংযোগ সড়ক ও জুলুসের রুটজুড়ে সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সচল রাখতে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে পুরো কর্মসূচির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।
সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। নগরবাসীর সহযোগিতা এবং আয়োজকদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এ আয়োজন চট্টগ্রাম মহানগরীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।