নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পেটের তাগিদে সাগরের তীরবর্তী এলাকা থেকে সামান্য মাছ ধরে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম আকমল আলী ঘাটের একদল দরিদ্র জেলে।
সাংবাদিক পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জেলেদের কাছ থেকে মাছ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে নিরব হাওলাদার নামের এক যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। তবে পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় একটি মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন 'সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ'-এর চেয়ারম্যান ও দৈনিক আলোচিত প্রতিদিনের সম্পাদক এস এম মিজান উল্লাহ।
মাছ ধরায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলায় চট্টগ্রাম আকমল আলী ঘাটের কতিপয় দরিদ্র জেলে সাগরের কিনারা থেকে ধরা সামান্য কিছু চিংড়ি বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মূল সড়কের ওপর এক যুবক নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে জেলেদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাদের হাত থেকে মাছ কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় জেলেদের তৎপরতায় ঘটনাস্থলেই আটক হয় কথিত সেই সাংবাদিক।
পরে উপস্থিত লোকজন ও প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে আটক যুবক নিজের নাম নিরব হাওলাদার বলে স্বীকার করে।
জেলেরা বলেন "আমরা খুব গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। সাগরের কিনারা থেকে দুই-চারটা চিংড়ি মাছ ধইরা বাজারে বেইচ্চা খাওয়ার লাইগ্যা লইয়া যাইতাছিলাম। এই পোলা আইসা আমাগো সাংবাদিকের ভয় দেহাইয়া হাত থাইকা মাছ কাইড়া লইয়া দৌড় মারছিল। আমরা হেরেই ধইরা ফালাইছি।"
ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহে সেখানে উপস্থিত হন সাংবাদিক এস এম মিজান উল্লাহ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি উপস্থিত থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন এবং উভয়পক্ষকে শান্ত করেন। তবে পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নিরব হাওলাদারের সঙ্গী তারেক মুন্না। অভিযোগে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মিজান উল্লাহ ও রহমান মাজির বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টার দাবি করা হয়।
মিথ্যা অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সাংবাদিক নেতা এস এম মিজান উল্লাহ।
এস এম মিজান উল্লাহ বলেন "আমি নিজেই সংবাদ সংগ্রহ করার সময় আকমল আলী ঘাটে জেলেরা মাছ চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই যুবককে ধরে রাখে। তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিলে আমি নিজে বিষয়টি মীমাংসা করে তাদেরকে নিরাপদে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, তারা পরবর্তীতে আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আমি সিএমপি পুলিশ কমিশনার মহোদয় এবং ইফিজেড় থানার ওসির কাছে এই সাজানো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।"
সাধারণ জেলে ও স্থানীয়দের দাবি, পেশাদার সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের ভুয়া সাংবাদিক ও চাঁদাবাজরা প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষদের জিম্মি করছে। এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।