চট্টগ্রামে আদালত চলাকালে এজলাস কক্ষে মামলার বাদীকে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আদালত পাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত -৩ এর এজলাস কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পর বিচারকের নির্দেশে দায়িত্বরত পুলিশ আহত ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নূরুল কবিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে ১৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।
জানা যায়, পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নুরুল কবির স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চাাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা ও চুরির ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তিনি একটি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করার জন্য আদালতে উপস্থিত হলে আদালত চলাকালে অন্য আসামীরা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায়।
ঘটনাস্থলে থাকা নুরুল কবিরের স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা বলেন, আজকে গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামি জামিনের আবেদন করলে আমার স্বামী বিরোধীতার জন্য আদালতে উপস্থিত হন। এজলাস কক্ষে ঢুকার কিছুক্ষণ পর মামলার আসামী ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল ও মো. ফয়সালসহ আরো কয়েকজন মিলে তাকে ঘিরে ধরে। এসময় অপু হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ছুরিকাঘাত করে। চুরিকাঘাতের পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
জানা গেছে, নুরুল কবিরের নিকট চাঁদাদাবীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামীদের সাথে পূর্ব বিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় নুরুল কবির ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা নং-৩(১১)২০২৪, মামলা নং-৪(৬)২০২৬, মামলা নং-২৩(৬)২০২৬ দায়ের করে। যাহা আদালতে বিচারাধীন এবং তদন্তাধীন আছে।
আসামীরা বাদীকে বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে আসতেছিলো। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গত ২৮/৮/২০২৬ ইং তারিখে নুরুল কবিরের পাঁচলাইশের নিজ বাড়ীতে দিন-দুপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করলেও ঘটনার ৩ দিন পর চুরির মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। মামলা নং- ২৪(৮)২৬। মামলায় এমরান, ফয়সাল, ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল, আনোয়ার, রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়। ৩০ আগষ্ট দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এজাহারনামীয় আসামি রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং ফয়সালকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন। গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামির জামিনের বিরোধিতা করার জন্য বাদী আদালতে উপস্থিত হলে আদালত চলাকালে মামলার অন্যতম আসামী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী অপুর নেতৃত্বে অন্য আসামীরা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায়।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক কোতোয়ালি থানায় অবগত করলে এসআই জুবায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামি গুরুতর জখমী হওয়ায় কথা বলতে পারতেছেন না। তদন্ত চলতেছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।